অল্প ইনভেস্ট করে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে অর্থ আয় করার কিছু উপায়!
স্বপ্ন জয়
নভেম্বর ৩০ , ২০২০
রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে আয় বলতে আমরা শুধুমাত্র রিয়েল এস্টেটের ব্যবসাকে বুঝে থাকি। অনেকেরই আবার হয়তো রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করার ইচ্ছাও থাকে। কিন্তু এ ব্যবসা করতে অনেক বেশি টাকার দরকার হয় বলে, অনেকে ইচ্ছা থাকলেও শুরুতেই সেটাকে দমিয়ে দেয়। কিন্তু কথা হচ্ছে রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে আয় বলতে কি শুধুমাত্র রিয়েল এস্টেটের ব্যবসাকেই বোঝায়?
যেহেতু রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে আয় করার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে সেহেতু আমাদের রিয়েল এস্টেটের মাধ্যমে আয় করার জন্য অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। চলুন সেই সকল পদ্ধতি দেখে আসি,
১. ফিক্স এন্ড ফ্লিপ হাউস: রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিগুলোর মধ্যে একটি শর্ট টার্ম্ স্ট্র্যাটেজি হল, ফ্লিক্স এন্ড ফ্লিপ হাউস। এক্ষেত্রে যারা হাউস ফ্লিপার থাকেন, তারা মূলত অল্প মূল্যে কিছু ঘর খুঁজে বের করে যেগুলোকে আবার নতুন করে সাজাতে হবে। আর তারপরে তারা সেই ঘরগুলোকে নতুন করে সাজায় এবং সেগুলোকে বেশি মূল্যে বিক্রি করে। ফরচুন বিল্ডারস ফিক্স এন্ড ফ্লিপ হাউস মেথডের জন্য অন্যতম একটি কোম্পানি।
২. হোম বায়ারস রিপ্রেজেন্ট: ক্লাইম্ব রিয়েল এস্টেট হল, একটি কোম্পানি যা রিপ্রেজেন্ট হোম বায়ারস মেথডের জন্য অন্যতম । ক্লাইম্ব রিয়েল এস্টেটের ফাউন্ডার কেনি ট্রুওং যখন এ ব্যবসায় প্রথমবার পা দিয়েছিলেন , শুধুমাত্র ভাইরাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই সফল হয়েছিলেন তিনি। এই পদ্ধতিতে যেভাবে কাজ করা হয় তা হল, যারা বাড়ি কিনতে চায়, শুধুমাত্র তাদের পছন্দমতো ঘরের মূল্য ও ঠিকানা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমেই।
৩. ইনভেস্ট ইন রাইট: রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট যে ফার্মগুলো রয়েছে মূলত সেগুলো বিভিন্ন ধরনের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও ম্যানেজ করে থাকে এবং সাথে সাথে সেগুলো মেনটেইনও করে থাকে। যদি আপনি ঝুঁকি কম নিয়ে রিয়েল এস্টেটের ফার্মগুলোতে ইনভেস্ট করতে চান, তাহলে আপনার জন্য সেরা একটি মাধ্যম হচ্ছে রাইট ।
৪. রিপ্রেজেন্ট হোম সেলারস: অ্যাটলান্টা রিয়েল এস্টেট প্রফেশনাল কোম্পানি হল রিপ্রেজেন্ট হোম সেলারস মেথডের জন্য অন্যতম । অ্যাটলান্টা রিয়েল এস্টেট প্রফেশনালের ফাউন্ডার স্টেইসি গ্যালান রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় হাজার হাজার ডলার খরচ না করে শুধুমাত্র ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে মার্কেটিং করেই সফল হয়েছেন। এই পদ্ধতি যেভাবে কাজ করে তা হল, যারা বাড়ি বিক্রি করতে চায়, শুধুমাত্র তাদের পছন্দমতো ঘরের মূল্য ও ঠিকানা দিয়ে বায়ারদের সাথে যুক্ত করে দেওয়া।
৫. ক্রিয়েট অ্যা রিয়েল এস্টেট অ্যাপ্লিকেশন: অনেকেই রিয়েল এস্টেট নিয়ে কাজ করতে চান, কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ তাদের নেই, সেক্ষেত্রে আপনি খুবই অল্প মূল্যে ডেভেলপার দ্বারা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন অথবা জেনারেল সফটওয়্যার তৈরি করে তারপরে, বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সম্পর্কিত তথ্য দ্বারা আপনার অ্যাপ্লিকেশনটিকে সাজাতে পারেন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আয় হবে আপনার ট্র্যাফিকের উপর। সুতরাং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সাথে এর মার্কেটিং ও করতে হবে।
৬. ইনভেস্ট ইন নন পারফর্মিং নোটস: নন পারফর্মিং নোট হচ্ছে এক ধরনের বন্ধক। অনেক সময় বাড়ি বিক্রি করার ছাড়াও বাড়ির মালিকেরা ইনভেস্টরদের কাছে অনেক অংশ ছাড়ে বন্ধক দিয়ে থাকে। নন পারফর্মিং নোটে অনেক ঝুঁকি যেমন রয়েছে তেমনি এই খাতে অনেক লাভও রয়েছে। এই খাতের সেরা একটি কোম্পানি হল পিপিআর দ্যা নোট কোম্পানি।।
৭.ইনভেস্ট ইন হোলসেল হাউস: আপনার ব্যাগভর্তি টাকা না থাকলেও, আপনি খুব সহজেই হোলসেলিং হাউসে ইনভেস্ট করতে পারেন। অনেক সময় রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টররা অনেক ধরণের কমদামী বাড়ি খুঁজে বের করে, যেটাকে তারা বিভিন্ন কন্ট্রাক্টের মধ্যে দিয়ে রাখেন।
এবং তারা সেই কমদামী বাড়িগুলোকে অল্প মূল্যে ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকেন। আর সেক্ষেত্রে এসব হোলসেলিং হাউস হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। আপনি চাইলে এসব হোলসেলিং হাউসে ইনভেস্ট করতে পারেন, যেখান থেকে অনেক কম সময়েই বেশ ভালো অর্থ আয় করা সম্ভব।
৮.রিয়েল এস্টেট ক্রাউডফান্ডিং: ক্রাউডফান্ডিং বিভিন্ন ইনভেস্টরদের সরাসরি রিয়েল এস্টেটগুলোতে ইনভেস্ট করার জন্য অর্থ জমা করে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, ইনভেস্টররা সঠিক জায়গায় বা উপযুক্ত রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট করতে পারছেন না। আবার প্রায়ই দেখা যায় যে, রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট করতে গেলে অনেক অর্থের দরকার হয়, যেটা বেশিরভাগ ইনভেস্টরদের কাছে থাকে না।
সেক্ষেত্রে, ক্রাউডফান্ডিং একটি অসাধারণ উপকারী মেথড হতে পারে। লেন্ডিং হোমের মতো একটি কোম্পানি তৈরি করলে সেখানে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ইনভেস্টরদের অল্প পরিমাণ অর্থও সঠিক আর উপযুক্ত রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট করা যায় |
Comments
Post a Comment